ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী তমা মির্জার পেশাজীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার করপোরেট জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করছেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংকে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
অভিনেত্রীর এমন সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে সমালোচনার এই আবহে তমার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তমার সমালোচনাকারীদের কড়া ভাষায় জবাব দেন ভাবনা। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের পেশাগত সাফল্যকে সমাজ কীভাবে ভিন্ন চোখে দেখে, সেই বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।
ভাবনার ভাষ্য, তমার জায়গায় কোনো পুরুষ অভিনয়শিল্পী একই পদে যোগ দিলে পরিস্থিতি হয়তো এমন হতো না। তিনি লিখেছেন, ‘তমা মির্জার জায়গায় কোনো পুরুষ অভিনেতা ব্যাংকের এই একই পদে থাকলে আমাদের কলিগরাই বড় ভাই বলে তেল দিতেন।’
এরপর সমাজে নারীদের নিয়ে প্রচলিত মানসিকতার সমালোচনা করেন ভাবনা। তার মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার নানা দিক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নারীর সাফল্যকে স্বাধীন অর্জন হিসেবে না দেখে কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতাকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
ভাবনা লেখেন, ‘সব দোষ মেয়েদের। মেয়েরা সুপারস্টার হবে অবশ্যই কোনো পুরুষের হাত ধরে, মেয়েরা একা কিছুই পারবে না—এই মনোভাব থেকে বের হয়ে আসেন। জানি পারবেন না, অনেকদিনের অভ্যাস তো।’
শুধু অভিনয় নয়, একজন নারী চাইলে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারেন—এমন বার্তাও দিয়েছেন ভাবনা। তার কথায়, ‘একজন নারী সব পারে, আপনাদের বলতে কষ্ট হয়। কারণ মেয়েদের বশ করতে ভালো লাগে সবার।’
নিজের বক্তব্যের শেষদিকে নারীর স্বাধীনভাবে পেশা ও জীবন বেছে নেওয়ার অধিকারের কথা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘নারীরা অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা, চাকরি, ছবি আঁকা, গান, লেখালেখি—সবই করতে পারেন। একই সঙ্গে মা কিংবা প্রেমিকা হিসেবেও নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে পারেন তারা।’
তমা মির্জার নতুন পেশাগত পরিচয় নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে ভাবনার প্রকাশ্য সমর্থন বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।