“চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে”—এই দৃঢ় স্লোগানকে সামনে রেখে মাদক চোরাকারবারিদের দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে র্যাব। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে মাদক নির্মূল করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে এই বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১ এর সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন সফল অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনছে।
সাম্প্রতিক এক অভিযানে র্যাব-১ রাজধানীর উত্তরা
র একটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডিএমপি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার অন্তর্গত ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের আজিজ স্কয়ার এলাকায় অবস্থিত ‘উত্তরা লিবার্টি ক্লাব’-এর ৫ম তলায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালীন র্যাব দুটি মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হলেন মোঃ রাসেল (২৮), যিনি উক্ত উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবার নাম মোঃ অলি উর রহমান এবং মায়ের নাম মোছাঃ রুজি আক্তার। তার স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার উত্তর সুতাল লরী হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার তুরাগ থানার নয়া নগর, পুরান কালিয়া এলাকায় বসবাস করছেন। দ্বিতীয় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ নয়ন মিয়া (৩৮), যিনি ওই ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবার নাম মোঃ নবি হোসেন এবং মায়ের নাম মোছাঃ আমেনা বেগম। তিনি ঢাকার বাড্ডা থানার বড় বেরাইল এলাকার চিনাদি পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।
র্যাব সদস্যরা ক্লাবের ৫ম তলার একটি নির্দিষ্ট কক্ষ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে মোট ৭৭৯টি বিদেশী বিয়ার ক্যান এবং দেশি ও বিদেশী মদের বোতল রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মোট পরিমাণ ৪৭০.৮৬ লিটার, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে অভিযানের সময় ওই ক্লাবের সভাপতি, কর্মচারী এবং আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী ব্যক্তি র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অত্যন্ত কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক ওই ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে র্যাব তাদের অভিযান ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এবং গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।