রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে সাজ সাজ রব

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। তাকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী রিপন ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ আরও অনেকে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরেও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা বলছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।

রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা- সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের।

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর