বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চলা প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য দেন।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।

জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর নিয়ে সরকারের তিন স্তরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন (নকশা) প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

কবে নাগাদ এটি চালু হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।

রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই কর্ডলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর