সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন

স্ত্রী হত্যার দায়ে এলজিইডি প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে
আসামিকে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ

বরিশালে স্বামীর পরকীয়া জেনে ফেলায় স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বামী এলজিইডির প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর আসামি হোটেল ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এই রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

এই ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে৷ মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, নিহতের ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল জহিরুল ইসলামের। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পরকীয়া জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে স্বামী জহিরুল ইসলাম। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছিল।

অন্যদিকে হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ১৬ বছর পর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

বাদী পক্ষের এই আইনজীবী বলেন, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করব না।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর