কারাতে কৌশল ও আত্মরক্ষামূলক দক্ষতার প্রদর্শন করে কাঠের তক্তা ভেঙেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিজয় সরণির র্যাংগস ভবনে বাংলাদেশ কিয়োকুশিন কারাতে সংস্থা আয়োজিত ‘ব্ল্যাক বেল্ট’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ দক্ষতার প্রদর্শন করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষায় ‘মার্শাল আর্ট’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্শাল আর্ট শুধু আত্মরক্ষার কৌশল নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রতি আস্থা অর্জন করলে সে সহিংসতা ও সংঘাত এড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও মার্শাল আর্টের প্রসার অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
ববি হাজ্জাজ নিজের কারাতে চর্চার শুরুর দিনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ১৯৯১ সালে কিয়োকুশিন কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার এই যাত্রা শুরু হয়। সে সময়ের কঠোর অনুশীলন, সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং ব্রেকিং প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতা আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান প্রজন্মের কারাতেকাদের পরিবেশনা তাকে তিন দশকেরও বেশি আগের সেই স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের গুণাবলি ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বিকাশে মার্শাল আর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে ব্ল্যাকবেল্ট অর্জনকারী কারাতেকাদের হাতে সনদ ও ব্ল্যাকবেল্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় তিনি কৃতী কারাতেকাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।