ঢাকা জেলার চার থানা পুলিশের সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে ডাকাত, চোর, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামিসহ মোট ৭৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল মাদকদ্রব্য, চোরাই মালামাল ও বিভিন্ন যানবাহন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা মিলনায়তনে সপ্তাহব্যপী বিশেষ অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা স্লোগানকে ধারণ করে ঢাকা জেলা পুলিশ রাজধানীসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ঘোষিত মাদক ও অপরাধবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।’
তিনি জানান, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ দমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত অভিযানে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা, নবাবগঞ্জ থানা, দোহার থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি দক্ষিণ) সাফল্য অর্জন করেছে।
অভিযানে ডাকাত ২৫ জন, চোর ৩৫ জন এবং ছিনতাইকারী ১৯ জনসহ মোট ৭৯ জন সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ২১৬টি গাড়ির ব্যাটারি, দুটি ট্রাক, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, একটি সিএনজি অটোরিকশা, তিনটি অটোরিকশা এবং পাঁচ কেজি তামার তার।
মাদকবিরোধী অভিযানে তিন হাজার ৫৭৮ পিস ইয়াবা, ২৫ কেজি গাঁজা, ৮২ গ্রাম হেরোইন ও ৫৬ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪৬ জনকে।
এ ছাড়া জিআর ও সিআর পরোয়ানাভুক্ত ২৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় ১৩৫ জন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি আলোচিত অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, গত ৮ জুন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় কুখ্যাত ডাকাত সনি ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সনির নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ সদস্যের একটি ডাকাত দল এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোডে চলাচলকারী সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় হামলা চালিয়ে ডাকাতি করত। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গত ১৩ জুন ঝিলমিল এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কুখ্যাত ডাকাত ল্যাংড়া এরফান ও তার তিন সহযোগীকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাকে হামলা চালিয়ে ডাকাতি করত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
১৪ জুন কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজিযোগে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা লিটনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, চক্রটি নিজস্ব সিএনজিতে যাত্রী সেজে বসে থাকত এবং একক যাত্রী পেলেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে টাকা, মোবাইল ফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের অর্থ ছিনিয়ে নিত।
এ ছাড়া বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে চুরি করা চক্রের মূল হোতা ওয়াশিম মিয়া ওরফে কালা ওয়াশিম এবং তার সহযোগী নূর হোসেনকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর বাবু হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সিয়ামকে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এনসিসি ব্যাংকের সামনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে শতাধিক মামলার আসামি ‘ব্রিফকেস’ হান্নানসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের অনুসরণ করে পথিমধ্যে ডাকাতির মাধ্যমে টাকা ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের কৌশল।
পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন বলেন, ‘বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশিং কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান চলবে। ’