পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দাইকোনা পশুর হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে হাট ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশে পশু রাখায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। একপাশ থেকে অন্যপাশে পশু নেওয়ার সময় বারবার থেমে যাচ্ছে যানবাহন। দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের মাঝ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। অনেক সময় পশু ছুটে গিয়ে সড়কের মাঝখানে উঠে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন চালকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে নেই কোনো কার্যকর শৃঙ্খলা বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা। ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রশাসন বা হাট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও চোখে পড়েনি।
গরু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, হাটে এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। রাস্তা পার হওয়া খুবই বিপজ্জনক। সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, প্রতি বছরই একই চিত্র দেখা যায়। ঈদ এলেই মহাসড়ক দখল করে হাট বসে। যানজট হয়, মানুষ কষ্ট পায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে; কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাট কমিটির দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পশুবাহী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মহাসড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে পশু রাখার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
তবে চান্দাইকোনা হাট কমিটির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম খান দাবি করেন, নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশও দায়িত্ব পালন করেছে। সরকারি নিয়ম মেনেই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, হাটবারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের অসচেতন আচরণও সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে