মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন

লিবিয়ার তদ্রু থেকে সমুদ্রযাত্রা, ৩৮ দিনেও সন্ধান নেই সোহেল রানার

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত হয়েছে
maxtvbd

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন মাদারীপুরের সোহেল রানা। সঙ্গে ছিলেন আরও ৪১ জন। গত ১৭ জুলাই লিবিয়ার তদ্রু থেকে যাত্রা শুরুর পর কেটে গেছে প্রায় ৩৮ দিন। কিন্তু এখনো পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই সোহেলের।

ছেলে কোথায়, কেমন আছে—কোনো উত্তর নেই পরিবারের কাছে। প্রতিদিন একটি ফোনকলের অপেক্ষায় দিন কাটছে বাবা আলী হোসেনসহ স্বজনদের। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে তাঁদের উৎকণ্ঠা।

সোহেল রানার বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কলচুরি গ্রামে। পরিবারের দাবি, গত ১৭ জুলাই লিবিয়ার তদ্রু থেকে মোট ৪২ জনকে নিয়ে একটি নৌযান সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর থেকেই সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ছেলে বেঁচে আছে কি না, সেটাও জানি না’

সোহেলের স্বজনদের চোখে এখন শুধু কান্না আর অনিশ্চয়তা। কখনো ফোনটি বেজে উঠবে, ওপাশ থেকে সোহেলের কণ্ঠ শোনা যাবে—এই আশায় এখনো অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেলের সঙ্গে শেষ যোগাযোগের পর থেকে তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিতজনদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেও কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

স্বজনদের আকুতি—সোহেল জীবিত থাকলে যেকোনোভাবে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক। আর যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত প্রকৃত তথ্য পরিবারকে জানানো হোক।

৪২ জনের সেই যাত্রার পর কী ঘটেছে?

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোহেলসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তদ্রু থেকে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। এরপর তাঁদের নৌযান বা যাত্রীদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

পরিবারের অভিযোগ, এই সমুদ্রযাত্রার সঙ্গে সাব্বির ও রিপন নামে দুই ব্যক্তি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমে যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি।

ফলে ৪২ জনের সেই নৌযানের কী পরিণতি হয়েছে, তাঁরা কোনো উদ্ধার অভিযানের আওতায় এসেছেন কি না কিংবা অন্য কোথাও পৌঁছেছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা পরিবারের কাছে।

ভূমধ্যসাগরের পথে কত পরিবারের স্বপ্ন ভেঙেছে

লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনিরাপদ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান, বৈরী আবহাওয়া, জ্বালানি বা খাবারের সংকট এবং সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিগত বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বহু অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকের কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনায় শুধু একজন মানুষই হারিয়ে যান না—একটি পরিবারের স্বপ্ন, অপেক্ষা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

সোহেল রানার পরিবারও এখন সেই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

‘আর কোনো পরিবার যেন এমন অপেক্ষায় না থাকে’

ভালো জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন সোহেলের পরিবারের কাছেও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুশ্চিন্তায়।

বাবা আলী হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশি দূতাবাস এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। ৪২ জনের নৌযানটির অবস্থান ও যাত্রীদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা অনুসন্ধানেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোহেল জীবিত থাকলে তাঁকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি তাঁদের। আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে, সত্যিটা যেন পরিবার জানতে পারে—এটাই তাঁদের শেষ চাওয়া।

প্রায় ৩৮ দিন ধরে একটি ফোনকলের অপেক্ষায় সোহেলের পরিবার।
প্রতিটি অচেনা নম্বরে ফোন এলেই বুক কেঁপে ওঠে—হয়তো এবার সোহেলের খবর পাওয়া যাবে।

কলচুরি গ্রামের এই পরিবারটির অপেক্ষার শেষ কোথায়, সোহেল রানা কোথায়—সেই উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের অপেক্ষায়।

একটি জীবনের সন্ধান শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়—এটি ৪২ জনের সেই সমুদ্রযাত্রার প্রকৃত পরিণতি জানারও দাবি।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর