বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ, অবৈধ দখল, দলিল-নামজারি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত হয়েছে
maxtvbd

চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল নামের এক ব্যক্তি তাঁর পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সম্পত্তি দখল করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে রুবেল জানান, তাঁর দাদি সরল বিশ্বাসে পারিবারিক জমি বন্ধক রাখলেও পরে বন্ধকের টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও জমি আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তাঁর ফুফু প্রায় এক দশক ধরে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এমনকি গাজীপুরের টঙ্গীতে গিয়ে বন্ধকের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হলেও জমির দখল ফেরত মেলেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত নেকো তালি খা (পিতা: মৃত ময়না খা) সে সময় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন। তাঁর প্রভাবের কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ন্যায্য প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং স্থানীয় লোকজনও তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাননি।

রুবেলের দাবি, ২০০৭ সালের দিকে কৌশলে তাঁর বাবাকে চাঁদপুরে নিয়ে গিয়ে টিপসই নিয়ে প্রায় ১২ শতাংশ জমি নিজের নামে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ তখনও তাঁর দাদি ও ফুফুরা জীবিত ছিলেন। পরিবারের অন্যান্য বৈধ উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কীভাবে দলিল, নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন হয়েছে, তা তদন্তের দাবি রাখে।

এছাড়া তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চাচার কাছ থেকেও প্রায় ১৫ শতাংশ জমি নেওয়ার দাবি করলেও সেই জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। টাকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হতো এবং তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে জীবিকার তাগিদে পরিবারটি ঢাকায় চলে গেলে তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়। তাঁদের দাদার নামে ৩৯ শতাংশ এবং তাঁর মামাতো ভাইয়ের নামে ১১ শতাংশ জমি থাকলেও মূল দলিল প্রায় ৩০ বছর বড় ফুফু হাফসা বেগমের কাছে সংরক্ষিত ছিল। সেই মূল দলিল ছাড়া কীভাবে দলিল সম্পাদন, নামজারি ও খারিজ হয়েছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করা হয়েছে।

রুবেলের ভাষ্য, পরিবারের নামে পৃথকভাবে খারিজকৃত ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ জমি আইনগতভাবে তাঁর ফুফুদের ওয়ারিশদের নামে ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বাবা ও চাচার কাছ থেকে মোট ২৭ শতাংশ জমি কেনার দাবি করে সেই হিসাবের মধ্যেই উক্ত ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ জমিও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা আইনগতভাবে বিক্রয়ের আওতায় ছিল না। এছাড়া আরও প্রায় ৭ শতাংশ অবিক্রিত পৈতৃক জমি রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ শতাংশ জমির ওপর তাঁদের বৈধ অধিকার এখনও বহাল রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তিনি নাকি বলেন, “যত টাকা লাগে খরচ করব, তবুও এই জমি ছাড়ব না।” এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রুবেল জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কয়েক মাস পর গ্রামে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের দাবি করা পৈতৃক জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং জমি বর্তমানে অন্যদের দখলে রয়েছে। বর্তমানে জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, দলিল-খতিয়ান-নামজারি-খারিজসহ সকল ভূমি সংক্রান্ত নথি যাচাই, অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর