ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৩৬ সাধারণ দলিল লেখক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কয়েক দলিল লেখক নিজেদের স্বঘোষিত আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে পুনরায় একইভাবে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছেন। তারা ‘দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড’ নামে নতুন করে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ দলিল লেখকদের মতামত ছাড়াই একতরফাভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ফারুক হোসেন এবং সদস্য সচিব আজিজুল লস্কর। তারা উভয়েই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি দলিল লেখকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন দলিলের ক্ষেত্রে শতকপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জমির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের প্রস্তাব রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নাসির উদ্দিন নামে এক দলিল লেখক সমিতির নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কোনো কমিটি ছিল না। সাধারণ মানুষ সরকারি ফি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করেছে। কিন্তু সাধারণ দলিল লেখকরা চায় না যে কমিটির মাধ্যমে চাঁদাবাজি হোক।
তারা বলেন, আমরা কোনো সমিতি চাই না। হঠাৎ করে যুবদলের দুই নেতা জোরপূর্বক নিজেদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ঘোষণা করে সমিতির নামে চাঁদাবাজি করার পাঁয়তারা করছে। সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এই সমিতির নামে চাঁদাবাজি মেনে নেওয়া হবে না।
দলিল লেখক আব্দুল আরিফ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এক নাসিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন আবার কিছু লোক নাসির সাজার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না সমিতি হোক। সমিতি হলে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে টাকা আদায় করে সমিতিকে দিতে হবে।
আরেক দলিল লেখক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, যারা দলিল করতে আসবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতেও চাই না, আর এই চাঁদাবাজি সমিতিকে দিতেও চাই না। আমরা এই লক্ষ্যে ইউএনও বরাবর লিখিত দিয়েছি।
এ ব্যাপারে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। অন্য কেউ বানিয়ে আমাদের নাম দিয়েছে। সাধারণ দলিল লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সরকারি ফি বাদে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কয়েকজন সাধারণ দলিল লেখক এসে একটি লিখিত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।