রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

ইরানের নেতৃত্বে আলোচনায় যে ৫ নাম

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪ বার পঠিত হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে একাধিক ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষিত উত্তরসূরি নেই। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পড়বে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেম নিয়ে গঠিত নির্বাচিত সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস–এর ওপর।

বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী সম্পর্কে সিএনএন যে তালিকা তুলে ধরেছে, তা নিচে দেওয়া হলো—

মোজতবা খামেনি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি (৫৬) প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে আইআরজিসি এবং এর স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ–এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। তবে শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর পছন্দ করা হয় না। এছাড়া তিনি উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই—এটিও বড় বাধা হতে পারে।

আলিরেজা আরাফি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও আলিরেজা আরাফি (৬৭) একজন প্রতিষ্ঠিত আলেম এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। তিনি বর্তমানে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের উপ-চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন, যা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন যাচাই করে। তিনি ইরানের সেমিনারি ব্যবস্থার প্রধানও। তবে তাকে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হয় না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।

মোহাম্মদ মাহদি মিরবাঘেরি কট্টরপন্থী মোহাম্মদ মাহদি মিরবাঘেরি (৬০) এই আলেমও অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য। তাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি হিসেবে ধরা হয়। ইরানওয়্যার-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি পশ্চিমাদের কড়া বিরোধী এবং বিশ্বাস করেন যে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। তিনি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের পবিত্র নগরী কুম–এ অবস্থিত ইসলামিক সায়েন্সেস একাডেমির প্রধান।

হাসান খোমেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হওয়ায় হাসান খোমেনির (৫০) ধর্মীয় ও বিপ্লবী বৈধতা রয়েছে। তিনি খোমেনির মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি কখনো জনসম্মুখে কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং নিরাপত্তা কাঠামো বা শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হয়। তাকে তুলনামূলকভাবে কম কট্টরপন্থী হিসেবে দেখা হয়।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি জ্যেষ্ঠ আলেম হাশেম হোসেইনি বুশেহরি (৬০) উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, বিশেষ করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসে তিনি প্রথম উপ-চেয়ারম্যান। তাকে খামেনির ঘনিষ্ঠ বলা হয়, তবে দেশীয় রাজনীতিতে তার প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে নিম্ন এবং আইআরজিসির সঙ্গে শক্ত সম্পর্ক আছে—এমন তথ্যও স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করবে ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরের সমঝোতা, ধর্মীয় মর্যাদা, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নজর থাকবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ওপর।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর