ফরিদপুরের সালথায় হত্যা মামলায় মো. রাজু মুন্সি নামের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (২৪ মে) রাতে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজু মুন্সী (৩৫) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর বাংরাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম মুন্সীর ছেলে। তিনি সোনাপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। অফিস খোলার পর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর ডিডিকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হবে। যদি তিনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাহলে আপাতত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।
সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, লিচু বাগান মালিক আজিজুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাজু মন্সি। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুলের লিচু বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য তৈরি করা টং ঘরে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতো পাশের সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে সাকিল মুন্সি ও তার সহযোগীরা। মাদক সেবন করার পর তারা বাগান থেকে লিচু চুরি করতেন।
গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু চুরিতে বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করে সাকিল ও তার সহযোগীরা।
ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৃদ্ধ আজিজুল স্থানীয় ফুলবাড়িয়া বাজারে গিয়ে মাদক সেবনকারী সাকিলের কাছে তার ছেলে আকরামকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আজিজুলের উপর হামলা চালায় সাকিল ও তার সহযোগীরা। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. ফজলুল হক মোল্যা (৫০) বাদী হয়ে গত ১৫ মে সালথা থানায় ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রাজু মুন্সিকে আসামি করা হয়।