শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

৫ দিন প্রেমেই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যুবক, বিয়েতে নারাজ গৃহবধূ

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত হয়েছে
প্রবাসীর স্ত্রী ও আটক নীরব। ছবি

ফেসবুকে মাত্র পাঁচ দিনের পরিচয়, তা থেকেই প্রেম। আর সেই প্রেমের টানেই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে ছুটে আসে নীরব (২০) নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গারোডোবা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আটক যুবক নীরব পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ী উপজেলার বলিবদ্র ইউনিয়নের মুসুদ্দি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

নীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গারোডোবা এলাকার দুবাই প্রবাসী রাহীমের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে নীরবের পরিচয় হয়। মাত্র পাঁচ দিন আগের সেই পরিচয় দ্রুতই প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রেমের টানে ওই যুবক বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সরাসরি তার বাড়িতে চলে আসে এবং কৌশলে খালাতো ভাইয়ের পরিচয় দেয়।

স্থানীয়  ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাহীমের মা মারা যাওয়ার পর সে ছুটিতে এসে রাবেয়া আক্তার লাবণীকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক মাস পর রাহীম আবারও দুবাই চলে যায়। বাড়িতে কেবল রাহীমের বৃদ্ধ বাবা ও তার স্ত্রী লাবণী থাকতেন।

অভিযোগ উঠেছে, লাবণী নিজেই নীরবকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসতে বলেছিল। রাতের খাবার শেষে নীরবকে আলাদা একটি রুমে ঘুমাতে দেওয়া হয়। পরে শ্বশুর ঘুমিয়ে পড়লে লাবণী গভীর রাতে নীরবের ঘরে প্রবেশ করে। বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য না থাকায় বিষয়টি টের পেয়ে যান প্রতিবেশীরা। তারা বাড়িটি ঘেরাও করে এবং একই ঘর থেকে ওই যুবক ও প্রবাসীর স্ত্রীকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

আটকের পর স্থানীয়রা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আটককৃত যুবক নীরব ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করতে সানন্দে রাজি থাকলেও, বেঁকে বসেন স্বয়ং স্ত্রী লাবণী। তিনি ওই যুবককে বিয়ে করতে কোনোভাবেই রাজি নন বলে সাফ জানিয়ে দেন। তার দাবি— মাত্র পাঁচ দিনের চ্যাটিংয়ের জেরে তিনি নিজের সংসার ভাঙতে রাজি নন।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত, রিয়াদ ও সীমান্ত বলেন, ‘ফেসবুকে প্রেম যে এতটা অন্ধ হতে পারে, তা এই ঘটনা না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। ছেলেটি তো বিয়ের জন্য এক পায়ে খাড়া, কিন্তু মেয়েটি এখন আর তাকে বিয়ে করতে চাইছে না।’

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো তীব্র গুঞ্জন চলছে এবং স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর