ফেলে দেওয়া ডিমের খোসায় বদলে যাচ্ছে তাদের ভাগ্য। এই খোসা থেকেই তৈরি হচ্ছে টাইলস। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় দিন দিন এই টাইলসের চাহিদাও বাড়ছে। এমন অভিনব উপায়ে টাইলস বানানোর কারিগর উগান্ডার একজন উদ্যোক্তা। টাইলসের মূল উপাদান ডিমের খোসা হওয়ায় দামে যেমন কম, তেমনি সবার নজরও কাড়ছে এটি।
প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। কিন্তু তাতে মোটেও বিচলিত নন গডফ্রে সেনগনজি। বিদেশ থেকে আমদানি করা টাইলস দেখতে যেমন সুন্দর। সেগুলো টেকসইও বটে। কিন্তু সেনগনজি যে টাইলস বানাচ্ছেন, তার সঙ্গে এগুলোর তুলনা নেই। সাধারণত চীন, ইতালি, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশ থেকে উগান্ডায় টাইলস আমদানি করা হয়। এসব টাইলস ক্লে সিরামিক, পোরসেলিন বা মার্বেল ও গ্রানাইট দিয়ে তৈরি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি টাইলস তৈরিতে ডিমের খোসা ব্যবহার করার কারণ হলো এর অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্রথমত এগুলো শক্তিশালী এবং হালকা। আর তাই এগুলোই একটি টাইলসের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি শক্তিশালী এবং একই সাথে হালকা হতে হবে।
মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স অ্যান্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক করেছে ৩১ বছর বয়সী সেনগেনজি। উগান্ডার রাজধানী কামপালার একটি শহরতলী কিটিজিতে এই টাইলস তৈরির কারখানা বানিয়েছেন তিনি। ডিমের খোসা থেকে টাইলস বানানোর পাশাপাশি কয়লাও তৈরি করছেন তরুণ এই উগান্ডান। সস্তায় এমন টেকসই টাইলস পেয়ে স্থানীয়রাও খুশি। তবে ফেসবুকের বদৌলতে বাইরের লোকজনও আসছে সেনগেনজির টাইলস কিনতে।
উগান্ডার ৬৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীর থাকার মানসম্মত কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য বেশির ভাগ বাড়িঘর মানহীন উপাদান তৈরি করতে বাধ্য হন তারা। অনেকে আবার ফ্লোর হিসেবে শুধুমাত্র সিমেন্টই ব্যবহার করেন। কিন্তু এ ধরনের ফ্লোরে সাধারণত ফাটল ধরে দ্রুত। আবার ধুলাও জমে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় এবং অ্যাজমার মতো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ ছাড়ায়।