ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কাজের সব স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার (২০ জুলাই) বিধানসভায় নতুন ভাষানীতির ঘোষণা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতি কার্যকর হবে। খবর আনন্দবাজারের।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সব সরকারি চিঠিপত্র, নির্দেশিকা, নোটিং ও বিজ্ঞপ্তি বাংলা ভাষায় প্রস্তুত করা হবে। কেন্দ্র সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি হিন্দিতেও সরকারি যোগাযোগ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা হবে। ভারত সরকার ও অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলা ভাষায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে হিন্দি ভাষাও ব্যবহার করা হবে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি চিঠির উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রোববার কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘শব্দ সংগ্রহশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ফাইল, নোটিং, চিঠিপত্র, নির্দেশিকা এবং এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া কেন্দ্র বা অন্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা ও হিন্দির ব্যবহার বাড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নতুন ভাষানীতি কার্যকর করার আগে আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কেন্দ্র সরকার বাংলা ভাষাকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভাষার মর্যাদা দেয়। অতীতে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারও প্রশাসনিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তা পূর্ণাঙ্গ ভাষানীতির রূপ পায়নি। এবার প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকেন্দ্রিক ভাষানীতি কার্যকরের ঘোষণা দিল।