মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ, কার বেতন কত

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ বার পঠিত হয়েছে
টাকার নোট সরকারের লোগো গেজেট ও অর্থমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি, সফটওয়্যার জটিলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণায় বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে এই গেজেট জারি হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই গেজেট জারি করতে চাইছে। এ কারণেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে গেজেট প্রকাশ যখনই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই ধরা হতে পারে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন।

এদিকে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কত হবে, কোন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন- এসব বিষয় নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

গেজেট প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি করা হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন আর নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’

এ ছাড়া পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর