বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত হয়েছে
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয়রা। ছবি : সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার।

রোববার (৭ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১৩ সালে যোগদান করেন সুজিত কর্মকার। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষ তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ তোলে। এর জেরে ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসেন সুজিত কর্মকার। ফটকের সামনে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর শুরু করে। পরে জোরপূর্বক তাকে আবার অটোরিকশায় তুলে নিয়ে সেখানেও মারধর করা হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাটি ভিডিও করে রাখেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষক প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় সেখান থেকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, সুজিত কর্মকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার কারণে আমি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে অবহিত করে রোববার বিদ্যালয়ে যাই। কিন্তু গেটে পৌঁছানোর পরই একটি চক্র আমাকে বেদম মারধর করে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।

ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। রোববার তিনি বিদ্যালয়ে আসার সময় গেটে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর