রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ সায়েদাবাদের একটি ভবনের ছাদে তাসলিমা (৩৪) নামের এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি তার স্বামী মো. রশিদ আহমেদ বাপ্পীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহ রাজু (৪১) ভিকটিমের বাসায় যান এবং ‘জরুরি কথা আছে’ বলে তাকে ছাদে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ছাদে গিয়ে তাসলিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সুরভী আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাসলিমার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ব্যবসার জন্য তাসলিমা রাজুর কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রাজু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।