ঢাকার কোতয়ালী সার্কেল এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জাল দলিল সৃজন, নামজারী জালিয়াতি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক নারী তার আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বাদী নাসরিন আহমেদ অভিযোগ করেন, তার ভাই মোঃ হাবিবুর রহমান (আসামী) প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন এবং তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
পৈত্রিক সম্পত্তির বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল মালিক ছিলেন তাদের দাদা মোহাম্মদ আরেফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী গোলাপ বানু, পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যাসহ উত্তরাধিকার রেখে যান। পরবর্তীতে এসএ, আরএস ও সিটি জরিপে সম্পত্তি যথাযথভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়।
বাদী ও আসামীর পিতা তারা মিয়া পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মোট ০০৬৩৬১ অযুতাংশ সম্পত্তির মালিক হয়ে ভোগদখলে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দুই পুত্র ও পাঁচ কন্যা ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির অংশীদার হন। বাদী নাসরিন আহমেদ দাবি করেন, তিনি তার প্রাপ্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন।
জাল দলিলের অভিযোগ
বাদীর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর নামজারী করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, আসামী ২০০৫ সালের একটি কথিত হেবা দলিল (নং-৮১৮৭) দেখিয়ে অতিরিক্ত ০১০৩ অযুতাংশসহ মোট ০৩১৪ অযুতাংশ সম্পত্তি নিজের নামে নামজারী করে নিয়েছেন।
পরবর্তীতে দলিলের কপি সংগ্রহ করে দেখা যায়, উক্ত দলিলে দাগ নম্বর, খতিয়ান, দাতার নাম ও গ্রহীতার নামের অসঙ্গতি রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কোতয়ালী সার্কেলে রিভিউ মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত শেষে সাব-রেজিস্ট্রারের প্রতিবেদনে দলিলের অসামঞ্জস্যতা উঠে আসে। ২০ জুলাই ২০২৩ তারিখে এসিল্যান্ড সংশ্লিষ্ট নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা বাতিল করে সম্পত্তি মূল জোতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ প্রদান করেন।
হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি
বাদীর অভিযোগ, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সকালে তিনি তার ছেলে মোঃ রুহুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজ মালিকানাধীন বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে আসামী ও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন তাকে বাধা দেন। এসময় তার ছেলেকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
বাদী দাবি করেন, ঘটনার সময় তাকে ও তার সন্তানকে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হন।
আইনি পদক্ষেপ
মামলায় দণ্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৩২৩/৫০৬/১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী আদালতের কাছে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে বাদী নিজেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।