শরীয়তপুরের সখিপুরের আলোচিত শিশু তাইয়েবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আয়শা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গত ১৪ জুন হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন লাভ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি এলাকার ছয় বছর বয়সী শিশু তাইয়েবা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। দুই দিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাশের বাড়ির একটি সেফটি ট্যাংক থেকে তাইয়েবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা টিটু সরদার বাদী হয়ে সখিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ তাইয়েবার আপন চাচি আয়শা বেগমসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন নাসিমা বেগম (স্বামী : বিল্লাল মোল্লা), গ্রাম : ছৈয়ালকান্দি, সখিপুর এবং আসিফ বেপারী (বাবা : মৃত মল্লিক চান, মা : আছিয়া), গ্রাম : মিলন বেপারী কান্দি, ডিএমখালী।
ঘটনার প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষুব্ধ জনতা সখিপুর থানা ঘেরাও করে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনায় তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে সখিপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুল হককে বদলি করা হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মাধ্যমে মামলা হস্তান্তর করা হয়।
নিহত তাইয়েবার বাবা টিটু সরদার বলেন, আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধান আসামির জামিনে আমরা চরম উদ্বিগ্ন। আমরা চাই দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে আমরা আশা করছি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান দীপু বলেন, এটি শরীয়তপুরের আদালত থেকে দেওয়া জামিন নয়। আসামিপক্ষ হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ নিয়ে এসেছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে এ মামলায় কোনো জামিন দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত তা বাস্তবায়ন করেছেন। জামিন পাওয়া মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে এবং রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি পরিচালনা করবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজিব ইসলাম সজিব বলেন, আয়শা বেগম একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মামলার এজাহারে তার নাম নেই। এ ছাড়া মামলায় তার কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও (স্বীকারোক্তি) নেই। মামলার নথিপত্র ও আইনগত বিষয় বিবেচনা করেই মহামান্য হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।