শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

এক্সপ্রেসওয়েতে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন— রাজু আহম্মেদ ওরফে লাল চাঁন (৩২), সজীব মৃধা (২৮) ও জিহাদ মিয়া (২১)।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৬ জুন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল করে মাওয়া যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের ওপর পবন ও তার বান্ধবী লামিয়া আক্তার বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পবনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে লামিয়া আক্তারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পবনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লামিয়া আক্তারের ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তাররা নিয়মিত চুনকুটিয়া বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় আড্ডা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করতেন। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকায় তারা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ছিনতাইয়ের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেও সড়কটিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর