মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

‘সুখকর নয়’ জাপানের সঙ্গে ব্রাজিলের শেষবারের স্মৃতি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত হয়েছে
পুরোনো ছবি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই ভিন্ন ধারার দল ব্রাজিল ও জাপান। ইতিহাস বলছে, মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতের স্মৃতি সুখকর নয় সেলেসাওদের জন্য। কারণ, শেষ দেখায় অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছিল সামুরাই ব্লু। সেই হতাশার স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলোত্তির দলকে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় হিউস্টনে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ জাপান। শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।

ব্রাজিল ও জাপানের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে বিসমার্কের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। এরপর গত প্রায় চার দশকে দুই দল মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং মাত্র একবার জয় পেয়েছে জাপান।

জাপানের সেই একমাত্র জয়টিই এসেছে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে। গত বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর দল। দ্বিতীয়ার্ধে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদার গোল ব্রাজিলকে হতবাক করে দেয়। ব্রাজিলের হয়ে সেদিন গোল করেছিলেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচের পরাজয়ের ধারাও ভাঙে জাপান। এর আগে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে দুই দল শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছিল স্বাগতিক ব্রাজিল, পরে তারাই টুর্নামেন্টের শিরোপাও জেতে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অবশ্য মাত্র একবারই দেখা হয়েছে দুই দেশের। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কেইজি তামাদার গোলে পিছিয়ে পড়েও রোনালদোর জোড়া গোল, জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলের সুবাদে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ব্রাজিল।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের সাফল্য তেমন নেই। তবে দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে সম্পর্ক বেশ গভীর। ১৯৯৩ সালে জে-লিগ চালুর পর জিকো, দুঙ্গা, বিসমার্ক, সিজার সাম্পাইওসহ অনেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ জাপানের ফুটবলের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গত কয়েক বছরে জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে সামুরাই ব্লু।

ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও জাপানের বিপক্ষে উজ্জ্বল ব্রাজিলের তারকারা। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ নয়টি গোল করেছেন নেইমার। ২০১৪ সালের এক প্রীতি ম্যাচেই তিনি করেছিলেন চার গোল, যা জাপানের বিপক্ষে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।

মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস, বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। তবে শেষ দেখায় জাপানের নাটকীয় জয় প্রমাণ করে দিয়েছে, সামুরাই ব্লুকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই হিউস্টনের লড়াইয়ে অতীতের রেকর্ড নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর