প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। দলটি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসেই দেশে ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে সারা দেশে আরও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের নানামুখী সংকটকে আমরা অস্বীকারও করতে চাই না, আবার সংকটের অজুহাতও বানাতে চাই না। বরং সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করতেই আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গ্রহণ করা অপরিকল্পিত ও লোক দেখানো ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’র জন্য নেওয়া বৈদেশিক ঋণ বর্তমানে দেশের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান এই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে না দেখিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট এবং ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় দেশি-বিদেশি ঋণ নিয়ে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যেগুলো থেকে কোনো ধরনের আয় বা রাজস্ব আসে না। ফলে এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং এর বোঝা দীর্ঘ সময় ধরে দেশকে বহন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, পুঁজিবাজারে অসংখ্য মানুষ তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। একই সঙ্গে টাকার মূল্য প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, এই সংকটের বাস্তবতা সরকার অস্বীকার করে না, তবে এটিকে কোনোভাবেই অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।
তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে সরকার এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করতে চায়। সরকারের মূল দর্শন হলো দেশের স্বার্থে সবার আগে বাংলাদেশ এবং জনগণের কল্যাণে সবার জন্য বাংলাদেশ। এই নীতিকে সামনে রেখেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।