কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী বন কর্মকর্তা না থাকায় বন বিভাগের সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন অবৈধভাবে গাছ কাটা ও বনভূমি দখলের প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে বন্ধ রয়েছে নতুন বনায়ন কর্মসূচি। এতে স্থানীয় পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিট ও রেঞ্জ অফিসগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বন সংরক্ষণ ও বনায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, কর্মকর্তা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে আছে। এই সুযোগে একটি চক্র অবৈধভাবে গাছ কেটে উজাড় করলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকারি ও সড়কের পাশের সামাজিক বনায়নের গাছ।
এ বিষয়ে কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি এই জেলায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, তাই বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। মূলত বন বিভাগে বর্তমানে তীব্র জনবল সংকট চলছে। একজন কর্মকর্তাকে কয়েকটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে দেবিদ্বারের বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন সেখানে গিয়ে অফিস করার নির্দেশনা দেবো।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য দেবিদ্বার বন বিভাগের বর্তমান অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেবিদ্বারের বনজ সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত একজন স্থায়ী ও দায়িত্বশীল বন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।