বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মোঃ আহসান হাবিব নামে এক বিএনপি নেতার নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্নাতক পাসের ভুয়া সনদ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দি সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে উপাচার্য মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে আহসান হাবিবকে উক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কলেজ পরিচালনা কমিটির ম্যানুয়াল অনুযায়ী, একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য হতে হলে অবশ্যই স্নাতক পাস হতে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মোঃ আহসান হাবিব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সনদ জমা দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯৭ সালে পাস করেছেন বলে দাবি করলেও তার রোল নম্বর (৭১১২) ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর (১৫১১৯৭) অনুসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল টেবুলেশন বইয়ে ‘অকৃতকার্য’ উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কাজী বিদ্যোৎসাহী সদস্য অনুমোদনের জন্য যে আবেদন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেখানে আহসান হাবিবের নাম ছিল না বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আহসান হাবিব বলেন, “আমি দুইবার ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও দ্বিতীয়বার পাস করেছি। তবে ভুলবশত আমার ছেলে প্রথমবারের প্রবেশপত্র জমা দেওয়ায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি এলএলবি পাসও করেছেন।
এদিকে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কাজী বলেন, “সনদ যাচাই করার সুযোগ আমার নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে মনোনীত করেছেন।”
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বিএনপির সভাপতির পদ নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দলীয় একটি অংশের দাবি, আহসান হাবীব ঠান্ডু নিজেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নন।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে নিজেকে সভাপতি হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে 
র বক্তব্য জানা যায়নি। একইসঙ্গে উপজেলা, জেলা বা কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।