শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

টাইমের প্রতিবেদন তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত হয়েছে

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট এখন পর্যন্ত সর্বাধিক ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম। এ সাক্ষাৎকারে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং সামাজিক বিভাজন দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

পরিকল্পনার বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন বিষয়গুলো তার কাছে অগ্রাধিকার পাবে। জবাবে তিনি বলেছেন, প্রথমেই প্রয়োজন ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা’। দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং তৃতীয়ত, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালানো। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি যা-ই হোক, যদি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া হাসিনার আমলে ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। এসব ক্ষত সারাতে এবং আওয়ামী লীগের আমলে রাজনীতিকীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানকে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি প্রতিশোধ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনতে পারবে না। যদি আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, দেশকে একত্র রাখতে পারি, তবে সেখান থেকে ভালো কিছু অর্জন সম্ভব।

অর্থনৈতিক রূপরেখা ও সংস্কারে তিনি বলেছেন, হাসিনার শাসনের শেষ দিকে বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। ২০০৬ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার দুর্বল মান ও যুব বেকারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের বাস্তব আয় কমে গেছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মজীবনে আসে, যুব বেকারত্ব ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ৪ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।

তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে নারীদের ও বেকারদের নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সম্পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ব্যাংকিং খাত উদারীকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে চান। প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নও তার অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ হলেও সর্বপ্রথম থাকবে বাংলাদেশের স্বার্থ। এরপর সম্পর্ক আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হবে।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যদিও হাসিনা সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারেক রহমান জানিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করা জরুরি। এটি শুধু বিএনপির দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের ভোটাধিকারের অধিকার ফিরে পায়।

২৪-এর গণ-আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারেক রহমান বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব অনেক বড়। আমরা তাদের ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে দেশকে এগিয়ে নেব।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর