এদিকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এবার দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ ছিল।
অন্যদিকে গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছে। প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং এর মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন। ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন ভোটার তাদের ভোট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র্যাব সদস্য, বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি।
এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।