বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় সংঘটিত গণ-আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম-ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘একটি প্রাণের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনা।
কোনো কিছুর বিনিময়েই সেই ক্ষতির পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যারা এখনো বেঁচে আছি, আমাদের দায়িত্ব হলো—শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হতে পারে দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গকৃত সব প্রাণের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়।
’
নারীদের গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনশক্তির বেশি নারীশক্তিকে রাষ্ট্র রাজনীতি অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। যদি আপনারা বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন তাহলে আমরা এবার প্রথমবারের মতন দেশে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারগুলোর নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে।
তবে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক এবং নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ প্রয়োজন এবং বাস্তবতার নিরিখে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ফ্যামিলি কার্ডটিকে আমরা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে মনে করি।
দেশে প্রতিবন্ধী প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কল্যাণ নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা মনেকরি প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি শুধু পরিবার নয় রাষ্ট্রেরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের কয়েক লাখ খতিব ইমাম মুয়াজ্জিন সাহেব রয়েছেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই মানুষগুলোর সঙ্গে আমাদের রয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক, আত্মিক এবং আধ্যাত্মিক সম্পর্ক। এদের অনেকেই আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং একইভাবে অন্য সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা ইনশাআল্লাহ আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
তারেক রহমানের ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)।