শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

গেন্ডারিয়ার ত্রাস ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিমেল দাস: মাদক, অস্ত্র ও ব্ল্যাকমেলিং সিন্ডিকেটে জিম্মি এলাকাবাসী

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত হয়েছে

 রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধীন এলাকায় অপরাধের এক বিষবৃক্ষ হয়ে ডালপালা মেলছে হিমেল দাস। সাধারণ হালিম বিক্রেতার সন্তান হয়েও রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এই যুবকের নেপথ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেলিং এবং হানি ট্র্যাপের মতো ভয়ংকর অপরাধের নীল নকশা। নিজেকে ‘প্ল্যান মেকিং মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করা হিমেল দাসের এই সিন্ডিকেটের কাছে এখন অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

পারিবারিক প্রশ্রয়ে মাদকের স্বর্গরাজ্য:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমেল দাস তার নিজ ঘরকেই মাদক সেবন ও বিক্রির নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় এক ‘মাদক ব্যবসায়ী ভাবি’র কাছ থেকে পাইকারিতে মাদক এনে সে নিজের বন্ধু মহলে খুচরা বিক্রি করে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, হিমেল এলাকার সহজ-সরল ছেলেদের নিজের ঘরে ডেকে এনে মাদক সেবন করায় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের মাদকাসক্ত অবস্থার ভিডিও ও ছবি গোপনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে এই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেল করে মোটা অংকের টাকা আদায় বা অপরাধমূলক কাজে বাধ্য করার পরিকল্পনা করে সে।

হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের নতুন নীল নকশা:
ইতিমধ্যে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হিমেল দাসের এই ভয়ংকর ভিডিও ফাঁদে আটকা পড়েছেন রাকিন, নাজমুল, দিপু ও কিশোর নামের চার যুবক। বর্তমানে মোতালেব প্লাজার মালিকের ছেলে রাকিবকে তার এক নারী বন্ধুর সহযোগিতায় ‘হানি ট্র্যাপ’ বা নারীঘটিত ফাঁদে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে হিমেল। গণমাধ্যমের কাছে এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও তার অপরাধমূলক পরিকল্পনার নথিপত্র এসেছে।
অস্ত্রের মহড়া ও অডিও ক্লিপে
দম্ভোক্তি:
হিমেল দাসের দুঃসাহস এখন আকাশচুম্বী। তার একটি কল রেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছেছে, যেখানে সে অত্যন্ত গর্বের সাথে এলাকায় নিজের প্রভাব ও অস্ত্রের উপস্থিতির কথা জানান দিচ্ছে। কল রেকর্ডে তাকে ৩২০৩২ সম্বলিত বিশেষ অস্ত্রের কোড ব্যবহার করতে শোনা যায়। জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে সে প্রায়ই নিজেকে সশস্ত্র ও ভয়ংকর এক গডফাদার হিসেবে জাহির করে থাকে।

ন্যাশনাল হসপিটালে প্রতারণা ও পলায়ন:
কেবল জালিয়াতি নয়, হিমেল দাসের চরিত্রে রয়েছে প্রতারণার চরম বহিঃপ্রকাশ। গত ২ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল হসপিটালে তার বাবার চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করে সে নানা মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে। হাসপাতালের কর্মরত নার্স ও মেডিকেল অফিসারদের ভাষ্যমতে, সে বিল পরিশোধ না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে যায়

আইনের চোখে হিমেল দাসের অপরাধ:
আইনগতভাবে মাদক ব্যবসা, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন (গোপন ভিডিও ধারণ), ব্ল্যাকমেলিং এবং অবৈধ অস্ত্রের হুমকি প্রদর্শন—প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুতর ও জামিন অযোগ্য অপরাধ। স্থানীয়রা প্রাণের ভয়ে সরাসরি প্রতিবাদ না করলেও পর্দার আড়ালে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। হিমেল দাসের ছোট ভাই একটি বিকাশ এজেন্টে কর্মরত থেকে এই অবৈধ অর্থের লেনদেনে সহায়তা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে গেন্ডারিয়ার এই মূর্তিমান আতঙ্ক হিমেল দাসকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এই উদীয়মান অপরাধী পুরো এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর