রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

২০ বছর পর চট্টগ্রামের মাটিতে তারেক রহমান

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত হয়েছে
চট্টগ্রাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রক্তস্নাত জমিন। যে রক্তের ঋণ কখনও শোধ হওয়ার নয়। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী বিএনপিকে দেশের রাজনীতিতে এগিয়ে রেখে সেই ঋণ কিছুটা শোধ করতে এগিয়ে এসেছে বারবার। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর যে তিনবার বিএনপি দেশ শাসন করেছে তিনটি নির্বাচনে দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে বিএনপি চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সংখ্য আসনে নির্বাচিত হয়েছিল।

,

জাগদল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে এসেছেন এফএম ইউসুফ, জামাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ, অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, এল কে সিদ্দিকী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ভাষা সৈনিক কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট আহমদুর রহমান, বদিউল আলম, ম সলিমউল্লাহ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ মঈন উদ্দিন, গোলাম আকবর খোন্দকার, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, একরামুল করিম, কাজী আকবর, মোরশেদ খানদের মতো বরেণ্য নেতা। যারা বিএনপিকে দেশের প্রধান জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এছাড়াও ১৯৭১ সাল থেকে কর্নেল অলি আহম্মদ বীর প্রতীক ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছায়াসঙ্গীর মতো। বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও চট্টগ্রাম বিএনপি থেকে উঠে আসা জাতীয় নেতা।

,
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পরিণত হয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীতে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর চট্টগ্রামের দৃশ্যমান উন্নয়ন যতটুকু হয়েছে তার প্রায় পুরোটাই বেগম জিয়ার হাতে। কর্ণফুলী সেতু, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ইপিজেড, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, বিজিএমইএ ভবন, নতুন রেল স্টেশনসহ চট্টগ্রামের কার্যকর উন্নয়নের সকল কৃতিত্ব বিএনপির।

এই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে একজন মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।

,
মেজর জিয়া থেকে তিনি হয়েছেন জেনারেল জিয়া, দেশের প্রেসিডেন্ট। চট্টগ্রামের নেতাদের তিনি নিজের করে নিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে দলীয় কর্মসূচিতে এসে তিনি কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য দ্বারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁকে প্রথমে সমাহিত করা হয় রাঙ্গুনিয়ায়। তারপর তাঁর মরদেহ স্থানান্তর করা হয় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে।
,
যেখানে গত ৩১ ডিসেম্বর তাঁর পাশে সমাহিত করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী বাংলাদেশের সবচে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে।,

জিয়া পরিবার তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের জন্য ছিলেন সব সময় উদার। চট্টগ্রামের জন্য প্রকল্প উত্থাপিত হলেই তাঁরা সেটি বিশেষ অগ্রাধিকার দিতেন। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে তাঁদের সন্তান আসলেন চট্টগ্রাম। অন্য যে কোনো বারের চেয়ে তারেক রহমানের এ সফর ভিন্ন। তিনি এখন দলের প্রধান। দলের প্রধান হয়ে প্রথম চট্টগ্রাম আসলেন তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাকিয়ে আছেন তারেক রহমানের দিকে।
সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তারেক রহমান চট্টগ্রামবাসীর জন্য কী বলবেন? কী প্রতিশ্রুতি দেবেন?

কাজির দেউড়ি এলাকার চা বিক্রেতা দুখু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তারেক রহমান কী বলেন সেটি শোনার জন্য পলোগ্রাউন্ড মাঠে যাবো। দলের জন্য তাঁর কী বক্তব্য সেটিও শুনবো। চট্টগ্রামবাসীর জন্য কী বলেন সেটিও শোনার অপেক্ষা আমরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছেন। তাঁকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষমান লাল বাসে উঠে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে হোটেল রেডিসনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর গাড়িবহর রেডিসনে প্রবেশ করে।

আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ছুটে যাবেন ফেনী। ফেনী থেকে কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জের সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে তিনি রাতে গুলশান বাসভবনে ফিরবেন।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর