শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

ভিপি প্রা-র্থী হয়ে রাকসুতে ই”তি”হাস গড়লেন তাসিন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে
রাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসিন খান। ছবি : maxtvbd

রাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসিন খান। ছবি : maxtvbd

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হচ্ছেন একজন নারী শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এই শিক্ষার্থী। ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।

রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা তাসিন খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নানা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার ভাষায়, ‘মৃত্যুর ভয় জয় করেই মাঠে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই সাহসই আমাকে এবার ভিপি পদে প্রার্থী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

১৯৬২ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী ভিপি পদে অংশ নেননি। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতির পর এবার আবারও রাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে একমাত্র নারী হিসেবে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাসিন। এ ছাড়া ছাত্রী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্যান্য পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভিপি প্রার্থী হয়ে রাকসুতে ইতিহাস গড়লেন তাসিন

প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তাসিন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় ভেবেছিলাম হয়তো আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হবে না। হয়তো রাজপথে মারা যাব, নয়তো বাকিটা জীবন কারাগারে কাটাতে হবে। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখন আবার রাকসুর নির্বাচনের ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে যাচ্ছি। তাই মনে হলো ভিপি পদেই লড়াই করা উচিত।’

প্রচারণা শুরু না হলেও ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যারা পাশে আছেন তারা মূলত সংগঠন ও রাজপথের সহযোদ্ধারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারব প্রচারণা শুরু হওয়ার পর। বর্তমানে একটি গ্রহণযোগ্য ইশতেহার তৈরির চেষ্টা করছি।’

ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তাসিন বলেন, ‘মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি সংগঠন সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে। শুধু প্রার্থী হিসেবেই নয়, ভোটার হিসেবেও অনিশ্চয়তায় ভুগছি। প্রশাসন এখনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সেল গঠনের কথা থাকলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। এসব সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে।’

রাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। দাখিল করা যাবে ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর। আর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর