রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না—এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে।
জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ভাই’-এ অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর পেছনে শুধু আগুন নয়, বরং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তই দায়ী বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
প্রায় দুই বছর পর, মঙ্গলবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ ঘটনায় ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভবনের মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যামিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রমজানুল হক নিহাদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বেইলি রোডের কেএফসি আউটলেটের পাশেই অবস্থিত বহুতল গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ওই রাতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। লিপ ইয়ার উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ের অফারে পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন ‘কাচ্চি ভাই’সহ অন্যান্য খাবারের দোকানে।
সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের নিচতলার ‘চুমুক’ নামের একটি কফি শপে থাকা একটি বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্তটি আসে তখনই।
‘কাচ্চি ভাই’-এর বেইলি রোড শাখার ম্যানেজার জয়ন উদ্দিন জিসান গ্রাহকরা বিল না দিয়ে চলে যেতে না পারে—এই উদ্দেশ্যে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের মতে, এই সিদ্ধান্তই একটি অগ্নিকাণ্ডকে রূপ দেয় গণমৃত্যুর ঘটনায়।
একজন সিআইডি কর্মকর্তা জানান, “অনেকেই ভেতরে আটকা পড়ে শ্বাসরোধে মারা যান। এটি চরম অবহেলার একটি উদাহরণ।” এ ঘটনায় জিসানের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অবহেলা’র অভিযোগ আনা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ধোঁয়া ও তাপের তীব্রতার কারণে আগুন পুরোপুরি নিভাতে কয়েকদিন সময় লেগে যায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশু। এছাড়া অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন। অনেকের মরদেহ পাওয়া যায় রেস্তোরাঁর ভেতরেই, যাদের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনার অবহেলাই এই দুর্ঘটনাকে এত ভয়াবহ করে তোলে—যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।
ঘটনার পরদিন রমনা থানায় অবহেলাজনিত হত্যার মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এই সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর সংবাদটি প্রথমে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো-তে প্রকাশিত হলেও, পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সংবাদটি সরিয়ে ফেলা হয়। কেন এমনটি করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো জনমনে প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।
