বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ কত? চলবে যত দিন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চললেও এখনো সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে আসন্ন এপ্রিল মাসে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনো জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং আরো কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানিসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার ফলে সরবরাহব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুদ ছিল। তবে সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ আগাম ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল কিনে রাখায় অনেক স্থানে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

 

মজুদ পরিস্থিতি
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

বর্তমানে জ্বালানি মজুতের চিত্র—

ডিজেল : গতকাল পর্যন্ত ডিজেলের ছিল ১.৮৫ লাখ টন। যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

অকটেন : বর্তমানে অকটেনের মজুদ আছে প্রায় ১১ হাজার টন। এ তেল দিয়ে ৯ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে।
পেট্রল : পেট্রল মজুদ আছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন। তা দিয়ে ১১ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে।
ফার্নেস তেল : ফার্নেস তেলের মজুদ আছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন। তা দিয়ে ২৯ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
জেট ফুয়েল : জেট ফুয়েলের মজুদ আছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন। যা ২৩ দিন সরবরাহ করা যাবে।
কেরোসিন : কেরোসিনের মজুদ আছে ৮ হাজার ৫৭১ টন। যা দিয়ে ৪৬ দিন সরবরাহ করা যাবে।
মেরিন ফুয়েল : মেরিন ফুয়েল রয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন। তা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে। 

এদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আরো ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

চাপের তিন কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে তিনটি বড় চাপ একসঙ্গে কাজ করছে—
১. জাহাজ আসতে বিলম্ব
২. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
৩. আতঙ্কে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই নৌপথ বন্ধ হয়ে পড়লে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোনো সংকট হবে না।

তিনি জানান, হঠাৎ তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তাই জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তবে, সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলেও বাজারে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তেলের পাম্পগুলোর কোনোটি বন্ধ রয়েছে আবার কোনোটি সরবরাহ চালু থাকলেও দেওয়া হচ্ছে চাহিদার তুলনায় সীমিত পরিমাণ তেল। আমদানি স্বাভাবিক না হলে এবং আতঙ্কজনিত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরো চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর