আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু এবং নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির বিতর্কিত অবস্থান বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সুরেই আইসিসি যেভাবে মোস্তাফিজুর রহমান ও জাতীয় জার্সির ওপর বিধিনিষেধের ইঙ্গিত দিয়েছে, তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে নিন্দার ঝড়। ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যঙ্গ করে বলছেন—আইসিসি মানে কি তবে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’?
বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল যখন আইসিসির বৈষম্যমূলক শর্তগুলো ফাঁস করেন, তখন থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আইসিসি তার চিঠিতে দাবি করেছে, বাংলাদেশ দলে মোস্তাফিজ থাকলে কিংবা সমর্থকরা লাল-সবুজ জার্সি পরলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। সাধারণ মানুষ ও ক্রিকেট ভক্তরা এই বক্তব্যকে ভারতের উগ্রবাদী শক্তির কাছে আইসিসির ‘নতি স্বীকার’ হিসেবে দেখছেন। ফেসবুক ও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) হাজার হাজার ব্যবহারকারী মন্তব্য করছেন যে, আইসিসি এখন আর বৈশ্বিক সংস্থা নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আইসিসি ভারতের অসহিষ্ণু পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে উল্টো বাংলাদেশকেই কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে কেন একটি দেশের সমর্থকদের নিজের পরিচয় বা জার্সি লুকিয়ে চলতে হবে? নেটিজেনরা এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, আইসিসি যদি ভারতের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সামলাতে না পারে, তবে টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়াই একমাত্র যৌক্তিক সমাধান। তারা আইসিসির লোগো ও নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ রাখার পরামর্শ দিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট শেয়ার করছেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দেশের সম্মান ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশ কোনো বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে সায় দেবে না। তিনি আইসিসিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ক্রিকেট বাজারের দোহাই দিয়ে কোনো একক দেশের একচেটিয়া আধিপত্য মানা হবে না। নেটিজেনদের কণ্ঠেও একই সুর শোনা যাচ্ছে; তাদের মতে, মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বা জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার চেয়ে টুর্নামেন্ট বর্জন করা অনেক বেশি সম্মানজনক।
ভারতের উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আইসিসির এই তথাকথিত ‘সুর মেলানো’র ঘটনাটি বিশ্ব ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে আইসিসি তাদের ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ ইমেজ ঝেড়ে ফেলে নিরপেক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না।