মমিনুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যুর খবরে বাড়িতে শোকের মাতম। প্রতিবেশিরা বাড়িতে ভিড় করছেন। স্বামীর মৃত্যু শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী ও মা। প্রতিবেশি ও স্বজনরা তাদের শান্তানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মমিনুলের বাবা আব্দুল করিম বলেন, আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ। এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসে। গতকাল (শনিবার) যোহরের নামাজের পর আমাদের সাথে কথা বলছিলো। আমাদের সবার খোঁজ নিয়েছিলো। আমরা তার লাশের অপেক্ষায় আছি।’
মমিনুলের ভাই মোসলেম উদ্দিন ঢাকায় থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে তিনি ছুটে গেছেন কুড়িগ্রামে। তিনি বলেন, আমার ভাই ভালো মানুষ ছিলেন। আমি গত রাতে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাই। এরপর ক্যান্টরমেন্টে যোগাযোগ করি। কবে লাশ আসবে তা জানি না, তবে স্যাররা বলেছেন, নিয়ম মেনে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সুদানের সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে ইউএন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। হামলার সময় ঘাঁটির ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসময় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত হন। আহত হন অন্তত ৮ সদস্য।
বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে শনিবার স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। ওই হামলায় দায়িত্বরত ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং ৮ জন শান্তিরক্ষী আহত হন।
শহীদ শান্তিরক্ষীদের নামও প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। অন্য শহীদরা হলেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর), সৈনিক শামীম রেজা, বীর (রাজবাড়ী), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।