শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

ব্রিটিশ পত্রিকার অনুসন্ধান: যুক্তরাজ্যে হাসিনা–ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পত্তির হদিস

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭১ বার পঠিত হয়েছে
লন্ডনের এই গ্রসভেনর স্কোয়ার গার্ডেনে বহু অভিজাত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে আবাসন খাতে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলয়ের কয়েকজন মন্ত্রীসহ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর নামে বিপুল সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অবজারভারের যৌথ অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্পত্তির মোট মূল্য ৪০ কোটি পাউন্ডের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) বেশি। বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ দিয়ে এসব সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবামাধ্যমটি বলেছে, যুক্তরাজ্যে এই ব্যক্তিদের নামে ৩৫০টির বেশি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট থেকে সুবিশাল ম্যানশন। তবে অধিকাংশ সম্পত্তি কেনা হয়েছে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে।

যুক্তরাজ্যেই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের রয়েছে ৩৬০টি বাড়ি। এছাড়া দুবাই–যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে আছে তার সম্পত্তি। অনুসন্ধানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পরিবারের সদস্যদের লন্ডনের অভিজাত এলাকায় বেশ কয়েকটি সম্পত্তিরও খোঁজ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মেফেয়ার এলাকায় গ্রোসভেনর স্কয়ারে সালমানের পরিবারের সদস্যদের অন্তত সাতটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান ২০২২ সালের মার্চ মাসে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। একই এলাকায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ পাউন্ড মূল্যের আরও একটি ফ্ল্যাট তার মালিকানায় রয়েছে।

এ ছাড়া সালমানের আরেক ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের চারটি সম্পত্তি রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। বর্তমানে কারাবন্দী সাবেক এই উপদেষ্টার অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

 

গত সেপ্টেম্বরে আল জাজিরার একটি অনুসন্ধানে বলা হয়, বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এবং আদালতের নির্দেশে স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও অবৈধ আয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো এসব বিষয়ে আলোকপাত করেছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এই নিউজটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও খবর